নিজস্ব প্রতিবেদক ।। ধামরাই উপজেলায় খেজুরের রস ছাড়াই চিনি,ফিটকিরি,রঙ,চুন ও হাইড্রোজ কাপড়ের রংসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল খেজুরের গুড়। কুল্লা ইউনিয়নের চাউলাইল এলাকায় এমন কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। খেজুরের রসের কোনো চিহ্ন না থাকলেও সেখানে দেদারসে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে গুড় তৈরি করা হচ্ছিল। নকল খেজুর গুড় তৈরির কারখানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে র্যাব-৪।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার সময় র্যাব-৪ এর নবীনগর ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্র তথ্য অনুযায়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে কাপড়ের রং,বিভিন্ন শিল্প-কেমিক্যাল,ফিটকিরি,চিনি,আটা,আখের গুড় এবং কৃত্রিম খেজুর গুড়ের ফ্লেভার ব্যবহার করে বাজারে’খাঁটি খেজুর গুড়’নামে ভেজাল গুড় সরবরাহ করা হচ্ছিল। এসব নকল গুড় প্রতিদিনই জেলায়-
উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছিল,যা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও অভিযোগ ছিল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর কাঁচামাল, রাসায়নিক পদার্থ,গুড় তৈরির সরঞ্জাম,ব্যবহৃত মেশিনারি এবং প্রস্তুত অবস্থায় থাকা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নকল গুড় জব্দ করা হয়। এছাড়া কারখানার ভেতরে কাজ করা কয়েকজন-কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে র্যাব জানান।
র্যাব-৪,সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুল ইসলাম বলেন,কাপড়ের রং ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে এ ধরনের ভেজাল গুড় তৈরি করা অত্যন্ত স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। এসব গুড় খেলে শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। কারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া তিনি আরও জানান,নকল গুড় উৎপাদনকারীরা বাজারে ‘খাঁটি খেজুর গুড়’ নাম ব্যবহার করে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতারণা করছিল। বিশেষত শীতকাল সামনে রেখে গুড়ের চাহিদা বাড়ায় ভেজালকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযান শেষে পুরো কারখানাটি সিলগালা করে দেয় র্যাব এর পাশাপাশি ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এবিডি.কম/জাহাঙ্গীর আলম রাজু